সার্কিট সুইচিং কি? wizstudy

circuit-switching-network-wizstudy


সার্কিট সুইচ

সার্কিট সুইচিং হচ্ছে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কে দুটি ডিভাইসের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের একটি পদ্ধতি। দুটি নোড বা ডিভাইস যখন কোনও সার্থক যোগাযোগ মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করে তখন তাকে সার্কিট সুইচিং বলে। এই পদ্ধতিতে দুটি ডিভাইস এর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের আগে ডিভাইস দুটির মধ্যে একটি ডেডিকেটেড কমিউনিকেশন চ্যানেল  তৈরী করা হয় । এই চ্যানেলটিকে আমরা সার্কিট বলে থাকি। এই সার্কিট টি দুটি ডিভাইসের মধ্যে  প্রকৃত ডাটা ট্রান্সমিশন শুরু হওয়ার আগে একটি পথ নির্ধারণ করে । সার্কিট সুইচিং মূলত ভয়েস এপ্লিকেশনের জন্য তৈরী করা হয়েছিলো। সার্কিট-সুইচড নেটওয়ার্কের উৎকৃষ্ট উদাহরণ প্রাথমিক যুগের এনালগ টেলিফোন নেটওয়ার্ক।

আপনি যখন আপনার কোন বন্ধুকে টেলিফোন লাইনে রিং করেন তখন আপনার টেলিফোনে আপনি এবং আপনার বন্ধুর টেলিফোনের মধ্যে একটি সরাসরি কানেকশান তৈরী হয়। এই কানেকশনটিকে আমরা সার্কিট বলে থাকি। আপনি যতক্ষণ টেলিফোনে কানেক্ট হয়ে থাকেন, সার্কিটটি ততোক্ষণ পর্যন্ত চালু থাকে। টেলিফোন নেটওয়ার্কে যতক্ষণ পর্যন্ত একটি সার্কিট অন থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত অন্য কোনো সার্কিট তৈরী হতে পারেনা। একটা কল কেটে যাওয়ার পরই কেবল আরেকটি কল করা যায়। এভাবে একটি টেলিফোনের সাথে আরেকটি টেলিফোনের কানেক্ট থাকার পদ্ধতিকেই সার্কিট সুইচিং বলা হয়। অর্থাৎ শুধুমাত্র দুটি ডিভাইসের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা। টেলিফোন নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে কখন কার কথা শোনা যাবে আর কার কথা পাঠানো হবে তা নিয়ন্ত্রন করে  ইলেক্ট্রনিক টেলিফোন এক্সচেঞ্জ সিস্টেম

সার্কিট সাধারণত দুই রকমের হয়, স্থায়ী ও অস্থায়ী। সার্কিট সুইচিং পদ্ধতিতে তিনটি ধাপের মধ্য দিয়ে যোগাযোগ সম্পন্ন হয়। যথা:

  • সার্কিট প্রতিষ্ঠা করা,
  • ডাটা ট্রান্সফার,
  • সার্কিটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা

লজিক্যালি চিন্তা করলে সার্কিট সুইচিং কোন নেটওয়ার্ক স্থাপন করার জন্য ভালো পদ্ধতি নয় । আমরা জানি সার্কিট সুইচ নেটওয়ার্ক  মূলত টেলিফোন নেটওয়ার্ক এর মতো কাজ করে থাকে। কিন্তু ইন্টারনেটের ডাটা বহন করা আর টেলিফোন লাইনে কল করা কিন্তু একই ব্যাপার নয়। 

টেলিফোন লাইনে আমরা কেবল একজন আরেকজনের সাথে কথা বলি। কিন্তু ইন্টারনেটে আমাদেরকে অনেকের কাছ থেকে একসাথে ডাটা আদান প্রদানের কাজ করতে হয়। 

টেলিফোনে আপনি যখন আপনার বন্ধুর সাথে সংযুক্ত হয়ে থাকবেন তখন সেই লাইনে আপনার সাথে অন্য কেউ সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবেনা।
টেলিফোনের ক্ষেত্রে এতে খুব বেশী সমস্যা না হলে ইন্টারনেটে ডাটা আদান প্রদানে এ পদ্ধতি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

যেমন ধরুন আপনি আপনার কোন বন্ধুকে অনেক বড় একটি ইমেইল পাঠাচ্ছেন। যেটি লোড হতে একটু সময় নিচ্ছে। এই অবস্থায় যদি অন্য কেউ আপনাকে ইমেইল করতে না পারে তাহলে ব্যাপারটি কেমন হবে ভানুন তো। 
 
ইন্টারনেটে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত অসংখ্য ডাটা আদান প্রদান করতে হয়। এখন কোনো একজনের কাছ থেকে ডাটা গ্রহণ কিংবা প্রেরণের সময় যদি অন্য আরেকজনের কাছ থেকে ডাটা গ্রহণ বা প্রেরণ না করা যায় সেক্ষত্রে কাজের গতি অত্যন্ত ধীরগতির হয়ে যায়। তাই সার্কিট সুইচিং পদ্ধতিতে তথ্য আদান প্রদান খুব বেশী গ্রহণযোগ্য নয়।


Post a Comment

Previous Post Next Post