কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি?

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি? নেটওয়ার্ক কাকে বলে? নেটওয়ার্ক কত প্রকার ও কি কি? উইজস্টাডি

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক


কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি?


আজকে আপনাদেরকে জানাবো কম্পিউটার নেটওয়ার্ক নিয়ে বিস্তারিত। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কিন্তু অনেক মজার একটি ব্যাপার। আপনি আমি আমরা সবাই প্রতিনিয়ত নেটওয়ার্কিং করে চলেছি তবে নেটওয়ার্ক নিয়ে ভালো একটি ধারণাও কিন্তু আমাদের থাকা উচিৎ । এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়লে আশা করি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক নিয়ে আপনাদের খুব ভালো একটি ধারণা হবে।


নেটওয়ার্ক কি?


সাধারণত দুই বা ততোধিক ব্যক্তি/বস্তুর মধ্যে একটা আন্তসম্পর্ক সৃষ্টি করা বা  পারস্পরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরী করা হলে তাকে নেটওয়ার্ক বলা হয়। 

যেমন : আমরা অনেকগুলো বন্ধুর সার্কেলেকে "বন্ধুদের নেটওয়ার্ক" বলে থাকি। অর্থাৎ এক্ষেত্রে অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন অচেনা অজানা মানুষ বন্ধূত্ব নামক একটি উপায়ে নিজেদের মধ্যে একটা পারস্পরিক সম্পর্ক/যোগাযোগ সৃষ্টি করেছে। এই ব্যাপারটিই মূলত নেটওয়ার্ক।


কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কি?


উপরের উদাহরণের অনুরূপ

তথ্য আদান-প্রদানের উদ্দেশ্যে  দুই বা ততোধিক কম্পিউটারের মধ্যে একটা আন্তঃসম্পর্ক সৃষ্টি করা বা পারস্পরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরী করাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলে। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীরা ফাইল, প্রিন্টার ও অন্যান্য সম্পদ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে পারেন, একে অপরের কাছে বার্তা পাঠাতে পারেন এবং এক কম্পিউটারে বসে অন্য কম্পিউটারে প্রোগ্রাম চালাতে পারেন।

যেমন: আমরা আমাদের বন্ধুদের সাথে কম্পিউটারের মাধ্যমে অডিও/ভিডিও কল, টেক্সট ম্যাসেজ, ই-মেইল ইত্যাদি বিনিময় করে থাকি। এই কাজগুলো কি আমরা এমনি এমনি করছি। এর জন্য আমাদেরকে নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে। এই যে আমাদের সবার কম্পিউটারগুলো একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে আমরা পরস্পরের সাথে যুক্ত করছি এই পদ্ধতিটাই হচ্ছে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক।


কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কাকে বলে?


সংজ্ঞাঃ একটি কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার সমূহকে অন্য এক বা একাধিক কম্পিউটার শেয়ার করে ব্যবহার করার জন্য পরষ্পর সংযুক্ত হয়ে থাকে। এই সংযুক্ত হওয়ার সিস্টেমকেই কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বলে


নেটওয়ার্ক আবিষ্কার করেন কে?


নেটওয়ার্কের আবিষ্কারের প্রক্রিয়াটি মূলত কোনো একজনের হাত দিয়ে হয়নি। এটি একটি সমন্নিত প্রক্রিয়া ছিলো। প্রথম কম্পিউটার নেটওয়ার্ক আবিষ্কৃত হয় ১৯৬৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। প্রথম কম্পিউটার নেটওয়ার্কের নাম ছিলো আরপানেট।  আজকে আমরা যে ইন্টারনেট নিয়ে এত মাতামাতি করছি, ইন্টারনেট আবিষ্কারের শুরুটা হয়েছিলো কিন্তু আরপানেটের হাত ধরেই।

 ১৯৬৯ পূর্ববর্তী সময়ে  নেটওয়ার্ক আবিষ্কারের ব্যাপারটি খুব বেশী সহজসাধ্য ছিলোনা। কোনো একজনের হাত ধরেও নেটওয়ার্ক আবিষ্কৃত হয়নি। আজকের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক আবিষ্কারের পেছনে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, দিনরাত এক করে কাজ করেছেন তৎকালিন প্রযুক্তিবিদরা।
তবে এককভাবে বলতে গেলে নেটওয়ার্ক তৈরীর জন্য মূল পৃষ্ঠপোষক ছিলো তৎকালিন আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স এডভান্স রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সি (Defence Advance Research Project Agency  সংক্ষেপে ডারপা (DARPA)। 

কেনো নেটওয়ার্ক তৈরী করা হয় / নেটওয়ার্কের উদ্দেশ্য কি / নেটওয়ার্কের কাজ কি / নেটওয়ার্কের সুবিধাগুলো কি কি?

 

নেটওয়ার্ক নিয়ে এই প্রশ্নগুলো সচরাচর হয়ে থাকে। আসলে সবগুলো জিজ্ঞাসাই সিমিলার, একই প্রশ্ন। এই প্রশ্নগুলোর উত্তরও একই। আমি সবটুকুই কাভার করার চেষ্টা করবো ইন শা আল্লাহ । এরপর যাবো নেটওয়ার্কের প্রকারভেদে। 

আমরা জানি নেটওয়ার্ক হচ্ছে একটা কম্পিউটারের সাথে অন্য কম্পিউটারের সংযোগ। কিন্তু মানুষ কি কম্পিউটার আবিষ্কারের সাথে সাথেই একটা কম্পিউটারকে অন্য কম্পিউটারে যুক্ত করে ফেলেছে!

উত্তর হচ্ছে - না। মানুষ যখন যেই জিনিসটি প্রয়োজন মনে করেছে তখনই সেটা তৈরী করেছে কিংবা আবিষ্কার/উদ্ভাবন করেছে। 

নেটওয়ার্ক তৈরীর ব্যাপারটিও তাই। মানুষ প্রয়োজনবোধ করেছে বলেই তৈরী হয়েছে নেটওয়ার্ক।পৃথিবীর প্রথম কার্যকর নেটওয়ার্ক ছিলো আরপানেট। যাকে এখন আমরা ইন্টারনেট হিসেবে জানি।

যদিও শুরুর দিকে নেটওয়ার্ক তৈরীর উদ্দেশ্য খুব বেশী কিছু ছিলো না। কেবল সামরিক/গবেষণার তথ্য আদান প্রদান এবং অল্প বিস্তর পারস্পরিক যোগাযোগ। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে  উন্নত হয়েছে নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি এবং এর ব্যবহারও বেড়েছে বহুগুণে।

বিভিন্ন কারণে নেটওয়ার্ক তৈরী করা হয়। যেমন:

  • (১) ডেটা আদান-প্রদান:

নেটওয়ার্ক স্থাপনের মাধ্যমে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত ডিভাইসগুলোর মধ্যে ডেটা আদান প্রদান করা যায়।যেমন:

I.নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দূর দূরান্ত থেকেও একজন আরেকজনের সাথে অডিও/ভিডিও কলে কথা বলতে পারে।

II.অডিও/ভিডিও/বার্তা(চ্যাটিং) আদানপ্রদান করা যায়। 

III.ই-মেইলের মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান করা যায়। 

IV. নেটওয়ার্ক স্থাপনের মাধ্যমে যেকারো সাথে অত্যন্ত স্বল্প সময়ে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। সে যত দূরেই থাকুক না কেনো।

  • (২)প্রাতিষ্ঠানিক কাজ: 

I.নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এখন খুব সহজে ঘরে বসেই দূর দূরান্তের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তীর আবেদন করা যায়, প্রবেশপত্র সংগ্রহ করা যায়, যেকোন পরীক্ষার ফলাফল দেখা যায়, এমনকি বিদেশী কোনো প্রতিষ্ঠানেও ভর্তীর সমস্ত কাজ করা যায়। 

II. নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দূর দূরান্তের প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করে নিয়োগ পরিক্ষার প্রবেশুপত্রও সংগ্রহ করা যায়।

III.নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এখন সরকারী অনেক সেবাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে না গিয়ে যেকোন জায়গা থেকে করা যায়। যেমন:ই-পর্চা সেবা

  • (৩)কেনাকাটা:

I.নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ঘরে বসেই যেকোন জিনিস এখন ক্রয় করা যায়।

  • (৪) চিকিৎসাসেবা:

I.নেটওয়ার্কের সাহায্যে ঘরে বসেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা সেবা নেয়া যায়।

  • (৫)ইনফরমেশন রিসোর্স শেয়ার : 

বিভিন্ন ধরনের ইনফরমেশন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আদানপ্রদান করা যায়। যেমন:

I.যেকোন সময় আমাদের কোন তথ্যের প্রয়োজন হলে আমরা তা ইন্টারনেটওয়ার্ক(ইন্টারনেট) এর মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে খুজে নিতে পারি মুহূর্তেই। 

II.নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নেটওয়ার্কভুক্ত ডিভাইসগুলোর জন্য একটি কেন্দ্রীয় স্টোরেজ মিডিয়া বা সার্ভার তৈরী করে তথ্য সংরক্ষণ করা যায়।

III.কোনো প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখার মধ্যে নেটওয়ার্ক স্থাপনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য আদান প্রদান করে দ্রুত ও সহজে কাজ সম্পাদন করা যায়।

IV.কোনো অফিসের একটি কম্পিউটারে যদি কোনো প্রয়োজনীয় তথ্য/ডেটা না থাকে কিন্তু তা যদি অফিসের অন্য কম্পিউটারে থাকে তাহলে তা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তাৎক্ষনিকভাবে ব্যবহার করা যায় ব্যবহার করা যায়।

  • (৬)সফটওয়্যার রিসোর্স শেয়ার :

বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শেয়ার করে কাজ করা যায়। যেমন :

I.দেখা গেলো একটি অফিসে কিছু কম্পিউটার আছে। এই কম্পিউটারগুলোতে কিছু কমন সফটওয়্যার প্রয়োজন। কিন্তু প্রতিটি কম্পিউটারের জন্য আলাদা আলাদা সফটওয়্যার কেনা বেশ ব্যয়সাপেক্ষ। এখন এই প্রতিটি কম্পিউটারের জন্য আলাদা আলাদা সফটওয়্যার না কিনে চাইলেই একটা মাত্র কপি কিনে কেন্দ্রীয়ভাবে ইন্সটল ও কনফিগার করব কম্পিউটারগুলোতে নেটওয়ার্ক স্থাপনের মাধ্যমে সবাইকে ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়া যায়। এতে অর্থেরও সাশ্রয় ঘটে।

II.অফিসের একটি কম্পিউটারে কোনো সফটওয়্যার না থাকলে তা যদি অন্য  কম্পিউটারে থাকে তাহলে তা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়। 

  • (৭)হার্ডওয়্যার রিসোর্স শেয়ার:

বিভিন্ন ধরনের হার্ডওয়্যার বা দামি যন্ত্রপাতি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শেয়ার করে ব্যবহার করা যায়। যেমন:

I.কোনো অফিসের প্রতিটি কম্পিউটারের জন্য আলাদা প্রিন্টার না কিনে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একটা মাত্র প্রিন্টার সবগুলো কম্পিউটারের সাথে যুক্ত করে সবাইকে ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়া যায়। এছাড়া স্ক্যানার, প্লটার, হার্ডডিস্ক স্পেস, মডেম ইত্যাদিও শেয়ার করব যায়। 

  • (৮)পিসি শেয়ার:

সাধারণত কেউ যখন পার্সোনাল কম্পিউটার ব্যবহার করে তখন সে একাই সেটি ব্যবহার করে। কিন্তু নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একটা পার্সোনাল কম্পিউটার একই সময়ে একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করতে পারে।

  • (৯)তথ্য সুরক্ষা:

নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত নয় এমন কেউ চাইলে সংরক্ষিত কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারবেনা। তাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।


নেটওয়ার্ক কত প্রকার? কম্পিউটার নেটওয়ার্কের প্রকারভেদগুলো কি কি? কম্পিউটার নেটওয়ার্ক প্রধানত কত প্রকার? কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে কয়ভাগে ভাগ করা যায়?


আসলে কোনো কিছু যখন শুরু করা হয় তখন এর প্রকারভেদ করার প্রয়োজন হয়না। কিন্তু ধীরে ধীরে যখন এর চাহিদা বা কাজের পরধি বেড়ে যায় তখন এসব কাজ কর্মের ভিত্তিতে আমরা ওই বিষয়টিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে থাকি। ১৯৬৯ সালে শুরু হওয়ার পর কেবল মাত্র একটা এজেন্সির অধীনে থাকা পৃথিবীর একমাত্র নেটওয়ার্ক  আরপানেট থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে এখন সমগ্র বিশ্বজুড়ে রয়েছে হাজার হাজার নেটওয়ার্ক। নেটওয়ার্ক প্রযুক্তিতে কম্পিউটার ছাড়াও যুক্ত হয়েছে আরো বিপুল সংখ্যক আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি। 

এসব কিছু বিবেচনা করে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে নেটওয়ার্ক কে শ্রেণীবিভাগ করা যায়। আমি ধাপে ধাপে নিচে আলোচনা করছি :

ভালোভাবে জানার জন্য অবশ্যই প্রতিটি প্রকারভেদ বিস্তারিত পড়বেন। 


প্রথম ধাপ :

মালিকানার ভিত্তিতে শ্রেণীবিভাগ 

নেটওয়ার্কের মালিকানার উপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্ককে দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

১.পাবলিক নেটওয়ার্ক 

যেসব নেটওয়ার্ক সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত তাই পাবলিক নেটওয়ার্ক। বিস্তারিত পড়ুন

২.প্রাইভেট নেটওয়ার্ক

যেসব নেটওয়ার্ক সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত নয়, শুধুমাত্র অনুমোদিত ব্যক্তিবর্গ ব্যবহার করতে পারে তাই প্রাইভেট নেটওয়ার্ক। বিস্তারিত পড়ুন


দ্বিতীয় ধাপ:

নেটওয়ার্কের ভৌগলিক বিস্তৃতির ভিত্তিতে শ্রেণীবিভাগ

একটি কম্পিউটার থেকে আরেকটি কম্পিউটার কতটুকু দূরে অবস্থিত তার উপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্ককে ৫ ভাগে ভাগ করা হয়।যথা:


১.পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (PAN)


আমাদের  দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত ব্যক্তিগত বিভিন্ন ইলেকট্রিক ডিভাইস  যেমন:কম্পিউটার, ল্যাপটপ,মােবাইল,ডিজিটাল ক্যামেরা, ওয়েব ক্যামেরা, সাউন্ড সিস্টেম, পিডিএ, বহনযােগ্য প্রিন্টার, স্ক্যানার ইত্যাদির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে একজনের ব্যবহার উপযোগী যে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয় তাই ব্যক্তিগত এলাকা নেটওয়ার্ক বা পারসোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (Personal Area Network) সংক্ষেপে PAN। বিস্তারিত পড়ুন


২.লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN)


একাধিক ব্যক্তির কাজের সমন্বয় সাধন ও গতি বৃদ্ধির জন্য একই ভবনের এক তলা থেকে অন্য তলায় , পাশাপাশি ভবনে কিংবা একই এলাকার কম্পিউটারগুলাের মধ্যে সংযােগ স্থাপন করাকে বলা হয় স্থানীয় অঞ্চলের নেটওয়ার্ক বা লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক সংক্ষেপে ল্যান বলে। বিস্তারিত পড়ুন

৩.ক্যাম্পাস এরিয়া নেটওয়ার্ক / কর্পোরেট এরিয়া নেটওয়ার্ক (CAN)


একাধিক প্রতিষ্ঠানের কাজের সমন্বয় সাধন ও গতি বৃদ্ধির জন্য দুই বা ততোধিক ল্যান(LAN) কে পরস্পর সংযুক্ত করে যে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয় তাকে বলা  হয় ক্যাম্পাস এরিয়া নেটওয়ার্ক সংক্ষেপে ক্যান । বিস্তারিত পড়ুন

৪.মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক (MAN)


কোনো এলাকা বা শহরের বিভিন্ন স্থানে থাকা কতগুলো কম্পিউটার বা  লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা  ক্যাম্পাস এরিয়া নেটওয়ার্ক কে একত্রে সংযুক্ত করে যে বৃহৎ নেটওয়ার্ক তৈরী করা হয় তাকেই বলা হয় মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক সংক্ষেপে ম্যান।  বিস্তারিত পড়ুন


৫.ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (WAN)


একটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল অথবা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা বিপুল সংখ্যক কম্পিউটার বা  লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (LAN) বা  মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক(MAN) নিয়ে পৃথিবীব্যাপি যে বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে তাই ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক (Wide Area Network) সংক্ষেপে WAN। বিস্তারিত পড়ুন


তৃতীয় ধাপ :

সার্ভিস প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ভিত্তিতে শ্রেণীবিভাগ 

নেটওয়ার্কে যুক্ত ডিভাইসসমূহ, যেমন: কম্পিউটার, প্রিন্টার ইত্যাদি কিভাবে নিয়ন্ত্রণ হবে এবং এদের সার্ভিস মডেল কেমন হবে তার উপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্ককে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। যথা: 


১.পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্ক (P2P)


আলাদা করে "সার্ভার কম্পিউটার " ছাড়াই যখন দুই বা ততোধিক কম্পিউটারকে সরাসরি পরস্পরের সাথে যুক্ত করে নেটওয়ার্ক গঠন করা হয় তখন তাকে পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক বলে।বিস্তারিত পড়ুন

২.ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক 


যখন কোনো একটি সার্ভার কম্পিউটারকে কেন্দ্র করে অনেকগুলো ক্লায়েন্ট কম্পিউটার নিয়ে নেটওয়ার্ক গঠন করা হয় তখন তাকে বলা হয় ক্লায়েন্ট সার্ভর। নেটওয়ার্ক।  বিস্তারিত পড়ুন

চতুর্থ ধাপ:

ডিভাইসের সংখ্যার ভিত্তিতে শ্রেণীবিভাগ

স্টোরেজ মিডিয়া, হোস্ট ও টার্মিনালের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক কে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়।যথা:


১.সেন্ট্রালাইজড নেটওয়ার্ক 


 যখন একটি প্রধান কম্পিউটার বা হােস্ট কম্পিউটার অর্থাৎ সার্ভার কম্পিউটারকে কেন্দ্র করে কিছু টার্মিনাল নিয়ে নেটওয়ার্ক গঠিত হয় তখন আমরা তাকে বলি সেন্ট্রালাইজড নেটওয়ার্ক। বিস্তারিত পড়ুন


২.ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্ক


ডিস্ট্রিবিউটেড নেটওয়ার্ক পরস্পর সংযুক্ত কিছু ওয়ার্কস্টেশন বা টার্মিনাল , বিভিন্ন শেয়ারড স্টোরেজ ডিভাইস এবং প্রয়ােজনীয় ইনপুট ও আউটপুট ডিভাইস নিয়ে গঠিত হয়। বিস্তারিত পড়ুন


৩.হাইব্রিড নেটওয়ার্ক 


পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক এবং ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে যে নেটওয়ার্ক গঠন করা হয় তাকে হাইব্রিড নেটওয়ার্ক বলা হয়। একে মিশ্র নেটওয়ার্ক ও বলা হয়। বিস্তারিত পড়ুন

পঞ্চম ধাপ:

টপোলজির ভিত্তিতে শ্রেণীবিভাগ 

টপোলজির উপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্ক প্রধানত চার প্রকারঃ


১.স্টার টপোলজি

এই টপোলজিতে নেটওয়ার্কের সব কম্পিউটার একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইসের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এই টপোলজি তৈরী করার সময় কেন্দ্রীয় ডিভাইস হিসেবে হাব বা সুইচ ব্যবহার করা হয়।


২.রিং টপোলজি

এই টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটার একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে রিং এর মতো নেটওয়ার্ক তৈরী করে।

৩.বাস টপোলজি 

এই টপোলজিতে একটি প্রধান তার/বাস/ব্যাকবোনকে কেন্দ্র করে অনেকগুলো কম্পিউটার নিয়ে একটি নেটওয়ার্ক তৈরী করা হয়। এতে কম্পিউটার বা নোডগুলো বাসের দুইপাশে সমান্তরালভাবে অবস্থান করে। 

৪.মেশ টপোলজি 

এই টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটার একে অপরের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। এর নেটওয়ার্ক সংগঠন বেশ শক্তিশালী এবং ডাটা আদানপ্রদান অনেক দ্রুত হয়।

৫.হাইব্রিড টপোলজি 

একাধিক টপোলজির সম্পন্বয়ে এই টপোলজি তৈরী করা হয়। তাই একে হাইব্রিড টপোলজি বলা হয়। বড় পরিসরে নেটওয়ার্ক তৈরী করার জন্য হাইব্রিড টপোলজি বেশ সহায়ক।

৬.ট্রি টপোলজি 

এই আর্টিকেলটি পড়লে টপোলজি টার্মটি ক্লিয়ার হয়ে যাবে আশা করি।


ষষ্ঠ ধাপ:

সুইচিং কৌশলের ভিত্তিতে শ্রেণীবিভাগ 

সুইচিং কৌশলের উপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্কে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়


১.সার্কিট সুইচ নেটওয়ার্ক 

২.ম্যাসেজ সুইচ নেটওয়ার্ক 

৩.প্যাকেট সুইচ নেটওয়ার্ক 


সপ্তম ধাপ:

নির্মাণ কৌশলের ভিত্তিতে শ্রেণীবিভাগ 

নির্মান কৌশলের ভিত্তিতে নেটওয়ার্ক মূলত ২ প্রকার।


১ পয়েন্ট টু পয়েন্ট নেটওয়ার্ক 

২.ব্রডকাষ্ট বা মাল্টিপয়েন্ট নেটওয়ার্ক 

Post a Comment

Previous Post Next Post