নেটওয়ার্ক টপোলজি কাকে বলে? টপোলজি কত প্রকার ও কি কি?

Wizstudy Network Series
Q n A 
Topic: Network Topology
By: Hossain Rahat

নেটওয়ার্ক টপোলজি কি? টপোলজি কত প্রকার ও কি কি?

নেটওয়ার্ক টপোলজি কি? নেটওয়ার্ক টপোলজি কাকে বলে? নেটওয়ার্ক টপোলজি কত প্রকার ও কি কি? উইজস্টাডি

বিভিন্ন প্রকার টপোলজি

নেটওয়ার্ক টপোলজি কি

স্বাগতম সবাইকে নতুন ব্লগে, নতুন লেখায়, নতুন টেক উৎসবে। বন্ধুরা আমাদের আজকের টপিক হচ্ছে নেটওয়ার্ক টপোলজি। এই আর্টিকেলে আমরা উদ্ধার করার চেষ্টা করবো নেটওয়ার্ক টপোলজি যাবতীয় নাড়ি নক্ষত্র।

কম বেশী আমরা সবাই জানি নেটওয়ার্ক গঠনের প্রধান শর্ত হচ্ছে একাধিক ডিভাইসের উপস্থিতি। এই ডিভাইস হতে পারে ডেস্কটপ , ল্যাপটপ , মোবাইলফোন কিংবা প্রিন্টার ইত্যাদি ইত্যাদি। 

এসব ডিভাইসকে একসাথে যুক্ত করে আমরা বিভিন্ন ধরনের (প্যান, ল্যান, ক্যান, ম্যানওয়্যান ইত্যাদি) নেটওয়ার্ক তৈরী করি। কিন্তু এই ডিভাইসগুলোকে ইচ্ছেমতো জুড়ে দিলেই একটি নেটওয়ার্ক তৈরী হয়ে যায়না। ডিভাইসগুলোকে এমনভাবে যুক্ত করতে হবে যেন সংযোগকারী তারের মাধ্যমে কম্পিউটারগুলোতে ডাটা আদান-প্রদান সহজসাধ্য এবং সহকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য হয়।

তাই একাধিক ডিভাইসকে একসাথে যুক্ত করে নেটওয়ার্ক তৈরী করার জন্য আমাদেরকে কিছু নিয়ম/পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। নেটওয়ার্ক তৈরীর জন্য একাধিক ডিভাইসকে একসাথে যুক্ত করার বেশ কিছু পদ্ধতি রয়েছে। এই পদ্ধতিগুলোই হচ্ছে নেটওয়ার্ক টপোলজি। আমরা নেটওয়ার্ক টপোলজি ব্যাপারটিকে জটিল করে ভাববো না। একদম সহজভাবে সহজ একটি সংজ্ঞা দিয়ে শুরু করছি। 

নেটওয়ার্ক টপোলজি কাকে বলে? 


সংজ্ঞাঃ যেকোন নেটওয়ার্ক তৈরীর জন্য কম্পিউটার এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতিগুলোকে যেই পদ্ধতিতে  একে অপরের সাথে যুক্ত করা হয় তাকেই বলা হয় নেটওয়ার্ক টপোলজি। 

যেমন ধরুন আপনাকে আমি কিছু চেয়ার দিয়ে বললাম চেয়ারগুলোকে মাটিতে ইচ্ছেমতো সাজাতে। আপনি করলেন কি, চেয়ারগুলোকে একবার একটার পর একটা রেখে সোজাসুজি সাজালেন। আবার তারার মতো করে পাঁচ কোণায় পাঁচটা চেয়ার দিয়ে স্টার অাকৃতিতে সাজালেন। এরপর আবার চেয়ারগুলোকে অনেকটা রিং এর মতো গোল করে বসিয়ে একটা গোল আকৃতি তৈরী করলেন। 

এই যে আপনি অনেকগুলো চেয়ারকে বিভিন্নভাবে সাজালেন এই কাজটাই যখন আমরা কিছু কম্পিউটারের ক্ষেত্রে করি তখন আমরা তাকে বলি টপোলজি। চেয়ারের উদাহরণ টা এখানে কেবলি প্রতীকি স্বরূপ। এই লেখায় চেয়ার সাজানোর পেছনে আমাদের মূখ্য কোন উদ্দেশ্য না থাকলেও কম্পিউটারকে কিন্তু আমরা নির্দিষ্ট কোন উদ্দেশ্য নিয়েই সাজাই। আর এই উদ্দেশ্য হচ্ছে নেটওয়ার্ক তৈরী করা।

চেয়ার সাজানোর ক্ষেত্রে আমরা ইচ্ছেমতো সাজাতে পারলেও  কম্পিউটারকে কিন্তু আমরা যেনতেনভাবে সাজাতে পারিনা। কম্পিউটারকে আমরা কেবল কয়েকটি পদ্ধতিতে  সাজিয়ে টপোলজি তৈরী করতে পারি। এবার চলো যাওয়া যাক সেই আলোচনায়, মানে, নেটওয়ার্ক টপোলজির প্রকারভেদে।

বন্ধুরা টপোলজির প্রকারভেদে যাওয়ার আগে আপনাদের আরেকটা বিষয় জেনে রাখা ভালো। তা হচ্ছে নোড-

নোড কি? 

নেটওয়ার্ক তৈরীর সময় আমরা ক্যাবল তারের মাধ্যমে একটি কম্পউটারকে অন্য কম্পিউটারের সাথে যুক্ত করি। কম্পিউটারকে তারের মাধ্যমে নেটওয়ার্কে যুক্ত করার সময় প্রতিটি কম্পিউটারের যে অংশে তার দিয়ে সংযোগ করা হয় সেই সংযোগস্থলকে নোড বলা হয়। বিস্তারিত পড়ুন

নেটওয়ার্ক টপোলজি কত প্রকার? 


কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরীর জন্য সাধারণত ৬ ধরনের নেটওয়ার্ক টপোলজি ব্যবহার করা হয়।

১.বাস টপোলজি (Bus Topology)

bus-topology-image-wizstudy.blogspot.com
এই পদ্ধতিতে কম্পিউটারগুলোকে অনেকটা বাসের ভেতরে সীটগুলো যেভাবে সাজানো থাকে সেভাবে সাজানো হয়। বাসের ভেতরে যেমন দুইপাশে সীট দিয়ে মাঝখানে  ফাকা রাখা হয় যাতে লোকজন এই পথে হেটে গিয়ে সিটে বসতে পারে বাস টপোলজিতেও ঠিক একই ব্যাপারটি ঘটে। এক্ষত্রে কম্পিউটারগুলো (নোডগুলো) হচ্ছে দুইপাশের সীট আর মাঝখানের ফাকা জায়গাটি হচ্ছে টপোলজির প্রধান তার। এই তারের মধ্য দিয়ে ডাটাগুলো চলাচল করে এক নোড থেকে অন্য নোডে যায়।

এই প্রধান তারকে বলা হয় বাস। প্রতিটি কম্পিউটার দুইপাশ থেকে আলাদা আলাদাভাবে বাসের সাথে সংযুক্ত থাকে। বাস টপোলজিতে ডাটা আদান প্রদানের সময় যেই কম্পিউটার থেকে ডাটা পাঠানো হয় সেই কম্পিউটার থেকে নির্দিষ্ট করে দেয়া হয় ডাটাগুলো কোন কম্পিউটারে যাবে। এরপর প্রেরক কম্পিউটার মূল তার অর্থাৎ বাসে ডেটা পাঠিয়ে দেয়। যেহেতু বাসের সাথে নেটওয়ার্কের সকল কম্পিউটার যুক্ত তাই বাসে সংযুক্ত থাকা অন্য কম্পিউটারগুলো প্রেরিত ডাটা পরিক্ষা করে এবং ডাটাগুলো যে কম্পিউটারে পাঠানো হয়েছে শুধুমাত্র সেই কম্পিউটারই ডাটা গ্রহণ করে এবং অন্যরা ডাটা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে। 

২.স্টার টপোলজি(Star Topology)

star-topology-image-wizstudy.blogspot.com

এই পদ্ধতিতে কম্পিউটারগুলোকে অনেকটা তারার মতো সাজিয়ে নেটওয়ার্ক গঠন করা হয়। তারার যেমন পাঁচটি কোণা এবং মাঝখানে একটি কেন্দ্র থাকে এই টপোলজিতেও নোডগুলোকে পাঁচটি কোণায় রেখে মাঝখানের কেন্দ্রে একটি হাব বা সুইচ এর মাধ্যমে নোডগুলোকে সংযুক্ত করে নেটওয়ার্ক তৈরী করা হয়। কেন্দ্রে থাকা হাব বা সুইচের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রন করা হয়।

স্টার টপোলজি নেটওয়ার্কে যেহেতু প্রতিটি কম্পিউটার কেন্দ্রের সাথে যুক্ত সেহেতু ডাটা আদান প্রদানের সময় তা কেন্দ্রে থাকা হাব বা সুইচের মধ্য দিয়ে যায়। এই টপোলজি তৈরীতে টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল, কো-এক্সিয়াল ক্যাবল, ফাইবার অপটিক ক্যাবল ব্যবহার করা হয়। 


৩.রিং টপোলজি(Ring Topology)

ring-topology-image-wizstudy.blogspot.com

এই পদ্ধতিতে নোডগুলো বৃত্তাকারভাবে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত হয়ে নেটওয়ার্ক গঠন করে, তাই একে রিং টপোলজি বলা হয়। এতে কেন্দ্রীয়ভাবে কোন ডিভাইস বা সার্ভারের প্রয়োজন হয়না। নেটওয়ার্কে যুক্ত প্রতিটি কম্পিউটার ডেটা প্রেরণের ক্ষেত্রে সমান অধিকার পায়।

৪.ট্রি টপোলজি(Tree Topology)

tree-topology-image-wizstudy.blogspot.com

ট্রি টপোলজিকে স্টার টপোলজির সম্প্রসারিত রূপ বলা যায়। এতে একাধিক কম্পিউটার কেন্দ্রীয়ভাবে একটি প্রধান হোস্ট কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকে, যাকে সার্ভার বা রুট নোড বলা হয়। এতে প্রতিটি কম্পিউটার তার পরবর্তী কম্পিউটারের জন্য ইন্টার্নাল হোস্ট কম্পিউটার হিসেবে কাজ করে।

৫.মেশ টপোলজি(Mesh Topology)

mesh-topology-image-wizstudy.blogspot.com
Mesh


আমরা জানি মেশ শব্দের অর্থ হচ্ছে জাল। নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে মেশ টপোলজিতে নোডসমূহকে অনেকটা জালের মতো করে সাজানো হয়। এ পদ্ধতিতে প্রতিটি কম্পিউটার একে অপরের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে যার ফলে নেটওয়ার্কভুক্ত কম্পিউটারগুলো একে অপরের সাথে খুব সহজে এবং দ্রুত ডাটা আদান-প্রদান করতে পারে। মেশ টপোলজিতে সংযুক্ত প্রতিটি কম্পিউটার একে অপরের সাথে P2P ( Point to Point  বা Peer to Peer) নেটওয়ার্ক তৈরী করে।


৬.হাইব্রিড টপোলজি(Hybrid Topology)

hybrid-topology-image-wizstudy.blogspot.com

বাস, স্টার, রিং, মেশ ইত্যাদি টপোলজির সমন্বয় করে গঠন করা হয় হাইব্রিড টপোলজি। বিভিন্ন অফিসিয়াল কাজে একটিমাত্র টপোলজি দিয়ে সবকিছু করা সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে। কেননা প্রতিটি টপোলজির ই নিজস্ব কিছু সুবিধা অসুবিধা আছে। এক্ষত্রে আমাদের একই নেটওয়ার্কে একাধিক  টপোলজির প্রয়োজন হতে পারে। আর এজন্যই একাধিক টপোলজির সমন্বয়ে গঠন করা হয় হাইব্রিড টপোলজি। 

Post a Comment

Previous Post Next Post