প্যাকেট সুইচিং কি? প্যাকেট সুইচড নেটওয়ার্ক কিভাবে কাজ করে? বিস্তারিত | wizstudy

packet-switching-network-wizstudy.blogspot.com

Packet switch network pattern

প্যাকেট সুইচিং নেটওয়ার্ক 

নেটওয়ার্কে ডাটা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য এবং বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতিটি হচ্ছে প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতি। ম্যাসেজ সুইচিং নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা দূর করার জন্য প্যাকেট সুইচিং নেটওয়ার্কের উদ্ভব। প্যাকেট সুইচিং মূলত ম্যাসেজ সুইচিং  এরই একটি পরিবর্তিত রূপ। 

প্যাকেট সুইচিং নেটওয়ার্ক কাকে বলে

যে পদ্ধতিতে ডাটা বা ম্যাসেজকে ছোট ছোট অনেকগুলো প্যাকেটে ট্রান্সমিট করে বা ভেঙ্গে নেটওয়ার্কের একস্থান থেকে অন্যস্থানে আদান-প্রদান করা হয় তাকেই প্যাকেট সুইচিং বলে। 

প্যাকেট সুইচিং এ ডাটাগুলোকে যে ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ করা হয় এগুলোকে বলা হয় ডাটা প্যাকেট বা নেটওয়ার্ক প্যাকেট। বলতে গেলে পুরো ইন্টারনেটই এই ডাটা প্যাকেটের উপর নির্ভরশীল। আমরা ইন্টারনেটই র মাধ্যমে যা কিছুই দেখি কিংবা দেখাই তার সবটাই কাজ করে প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতির ভিত্তিতে।

এখান থেকে বোধহয় খুব ভালোভাবে বুঝলেন না তাইনা। চলুন আমরা আরেকটু ডিপে যাই। সব বুঝে যাবেন।

প্যাকেট সুইচিং কিভাবে কাজ করে 

প্যাকেট সুইচড নেটওয়ার্কে প্রথমে ডাটাকে ছোট ছোট প্যাকেট আকারে ভেঙ্গে অনেকগুলো খন্ডে টান্সমিট করা হয় । যেমন ধরুন আপনি ইন্টারনেটে একটি ছবি আপলোড করলেন। সবাই আপনার এই ছবিটিকে সম্পূর্ণ দেখতে পাবে। কিন্তু আপনার এই সম্পূর্ণ ছবিটি কিন্তু ইন্টারনেটে  একসাথে অবস্থান করছেনা। আপনি ছবিটিকে ইন্টারনেটে আপলোড করার সাথে সাথে এই ছবিটি অসংখ্য খন্ডে খন্ডে বিভক্ত হয়ে যায়। এই যে আপনার ছবিটি অনেকগুলো খন্ড খন্ড হয়ে গেছে এই খন্ডগুলোকে বলা হয় ডাটা প্যাকেট

আপনি ছবিটি আপলোড করার সাথে সাথে ভাগ হওয়া প্যাকেটগুলোর প্রত্যেকটি প্যাকেটের হেডারে এটি কোথা থেকে এসেছে অর্থাৎ সোর্স এবং এটি কোথায় যাবে তার ঠিকানা অর্থাৎ ডেস্টিনেশন এর অ্যড্রেস দেয়া হয়। 

এক্ষেত্রে ধরুন আপনি ছবিটি একটি ওয়েবসাইটে আপলোড করেছেন। এক্ষেত্রে আপনার ছবিটির প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে আপনার হোস্টিং সার্ভারের ঠিকানা দেয়া থাকবে যেখানে গিয়ে প্রতিটি প্যাকেট আবার একত্রিত হয়ে মূল ডাটাতে রূপান্তরিত হবে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি হিসেবে সংরক্ষিত হবে।

এখনো না বুঝলে পড়তে থাকুন শেষ পর্যন্ত। অবশ্যই বুঝে যাবেন। 

এখন কেউ আপনার আপলোড করা ছবিটি দেখার জন্য ওয়েবপেইজ লোড দিলে ইন্টারনেটে থাকা আপনার ছবিটি আবার অসংখ্য খন্ডে বিভক্ত হয়ে যাবে।এক্ষেত্রে প্যাকেটগুলোর হেডারে যিনি ছবিটি দেখতে চাইছেন তার ডিভাইসের এড্রেস দেয়া থাকবে। এরপর সার্ভারে  থাকা আপনার ছবিটির প্রতিটি প্যাকেট নির্ধারিত গন্তব্যে এসে একত্রিত হয়ে আবার মূল ডাটায় রূপান্তরিত হবে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি প্রদর্শিত হবে।

মাঝে মাঝে লক্ষ্য করলে দেখবেন ইন্টারনেট একটু স্লো কাজ করলে বড় কোন ছবি দেখতে চাইলে ছবিটি ধীরে ধীরে ওপেন হয়। এর কারণ হচ্ছে ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে ডাটা প্যাকেটগুলোর একত্রিত হতে অল্প একটু সময় বেশী লাগে। 

প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতির আরেকটি সহজ উদাহরণ হচ্ছে ই-মেইল আদান-প্রদান। আপনি যখন আপনার কোন বন্ধুকে ইমেইল পাঠান তখন এটি ইন্টারনেটে অসংখ্য খন্ডে বিভক্ত হয়ে আপনার বন্ধুর ইমেইল একাউন্টের দিকে যেতে থাকে। এই খন্ডগুলোকে আমরা প্যাকেট বলি তা তো জানেন ই। প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে অটোম্যাটিকালি আপনার ঠিকানা এবং আপনার বন্ধুর ঠিকানা যুক্ত হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আপনার প্রেরিত ইমেইলটির অসংখ্য খন্ড আপনার বন্ধুর ডিভাইসে গিয়ে আবার একত্রিত হয়ে মূল ডাটায় রূপান্তরিত হয় এবং আপনার বন্ধু একটি পূর্ণাঙ্গ ই-মেইল দেখতে পায়।

প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতি শুধুমাত্র ছবি কিংবা ই-মেইলের ক্ষেত্রে  নয় ইন্টারনেটে থাকা সকল ধরনের ডাটার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এই ডাটা হতে পারে টেক্সট, ম্যাসেজ, ওয়েবসাইট,ওয়েবপেইজ, ভিডিও, অডিও ইত্যাদি ইত্যাদি। 

একটি ডাটাকে সম্পূর্ণরুপে নেটওয়ার্কে সেন্ড করার চাইতে অনেক গুলো প্যাকেট রুপে সেন্ড করলে অনেক বেশী দক্ষ নেটওয়ার্ক স্থাপিত হয়। এতে ডাটা গুলো কম সময়ে অনেক দ্রুত এবং সহজে দক্ষতার সাথে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

কেননা প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতিতে প্যাকেটগুলো ছোট আকৃতির হওয়ার কারণে এদের সংরক্ষণ করতে এক্সচেঞ্জে বেশি জায়গা লাগে না এবং সার্কিট দিয়ে প্যাকেট দ্রুত পরিবহন করা যায় যা ম্যাসেজ সুইচিং এ করা যেতোনা। তাই ডাটা আদান-প্রদানে প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতি এতটা জনপ্রিয়। 

আশা করছি প্যাকেট সুইচিং নিয়ে আপনাদের আর কোনো কনফিউশন নেই। আমার আর্টিকেলে ব্যবহৃত কোন শব্দ বুঝতে অসুবিধা হলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আপনাদের মূল্যবান মতামত আমার নতুন আরেকটি আর্টিকেল লেখার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।  সবার জন্য শুভকামনা। 

Post a Comment

Previous Post Next Post