ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক কি? সুবিধা অসুবিধা

Wizstudy Network Series
Q n A 
Topic: Client-Server Network 
By: Hossain Rahat

 ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক কাকে বলে? এর সুবিধা অসুবিধা 

Client-Server Network

client-server-network-wizstudy
ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক মডেল


ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক কি?


আচ্ছা বলুন তো আমরা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক কেনো গঠন করি! অবশ্যই তথ্য-উপাত্ত শেয়ার করার জন্য। 

কিন্তু আমরা যে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্য  উপাত্তগুলো শেয়ার করি এগুলো সব যায় কই! 

ঠিক এখানেই একটি  সুপরিচিত টার্ম আমাদের সামনে চলে আসে, যার নাম "সার্ভার "।

ক্লায়েন্ট সার্ভর নেটওয়ার্ক কি এটা জানার আগে আমাদের জানতে হবে ক্লায়েন্ট কি এবং সার্ভার কি? আপনি হয়তো সার্ভার শব্দটি প্রায়ই শুনে থাকবেন। তবুও বোঝার সুবিধার্থে আমি সামান্য একটু আলোচনা করছি। 

ভালোভাবে জানার জন্য একটু কষ্ট করে হলেও সার্ভার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেবেন। আপনার জানাশোনার পাল্লাটা আরেকটু ভারি হবে। 

সাধারনত যখন একটি নেটওয়ার্ক গঠন করা হয় তখন এর কেন্দ্রে এক বা একাধিক কম্পিউটার থাকে যারা শুধু বিভিন্ন ফাইল সংরক্ষন করে এবং ক্লায়েন্টের রিকোয়েস্ট অনুযাই প্রদান করে। 

এই কম্পিউটারগুলো ফাইল দেওয়া নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো কাজ করেনা। এদেরকে বলা হয় সার্ভার।

এই কম্পিউটারগুলো এমনি এমনি কাউকে ফাইল দিয়ে দেয়না। তার জন্য একে রিকোয়েস্ট করতে হয়।

সার্ভার থেকে রিকোয়েস্টের মাধ্যমে যে কম্পিউটার ফাইল রিসিভ করে তাকে বলা হয় ক্লায়েন্ট । 

মজার ব্যাপার হচ্ছে পৃথিবীতে যত ধরনের নেটওয়ার্ক গঠন করা হয় তার অধিকাংশই হচ্ছে ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক। পুরো আর্টিকেলটি পড়ার পর আপনি নিজেই বুঝে যাবেন।


ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক কাকে বলে?


সংজ্ঞা : যখন কোনো একটি সার্ভার কম্পিউটারকে কেন্দ্র করে অনেকগুলো ক্লায়েন্ট কম্পিউটার নিয়ে নেটওয়ার্ক গঠন করা হয় তখন তাকে বলা হয় ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক। 

এক্ষেত্রে সকল ডাটা কেদ্রীয়ভাবে সার্ভারে জমা রাখা হয় এবং নেটওয়ার্কে থাকা ক্লায়েন্ট কম্পিউটারগুলো প্রয়োজন অনুযাই সার্ভার থেকে ডাটা নিয়ে ব্যবহার করতে পারে। 

ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক একটি কেন্দ্রীয় সার্ভারকে ঘিরে গড়ে ওঠে বলে একে "সার্ভার বেজড নেটওয়ার্ক" ও বলা হয়। 

বড় বড় ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্কে একাধিক সার্ভার থাকে এবং প্রতিটি সার্ভার আলাদা আলাদা উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।

যেমন: কোনো একটি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটের অ্যাপ্লিকেশন, ডাটাবেজ, মেইল, ওয়েব ইত্যাদির জন্য আলাদা আলাদা সার্ভার ব্যবহার করা।


ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্কের সুবিধা/অসুবিধা/বৈশিষ্টগুলো:

ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক এর সুবিধা এবং অসুবিধাগুলো নিচে দেয়া হলো।

সুবিধা:

ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক এর সুবিধাগুলো হলোঃ

  • ১.নেটওয়ার্ক এডমিনিস্ট্রেটর দিয়ে এই নেটওয়ার্ক কেদ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অর্থাৎ কোনো রিসোর্স (যেমন:প্রিন্টার) ব্যবহারের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে সার্ভার নিয়ন্ত্রকের অনুমতি লাগবে
  • ২.সকল ফাইল এক জায়গায় জমা হয়, এতে করে ফাইল ব্যবস্থাপনা করা কিংবা কোনো ফাইল খুজে বের করা সহজ হয়।

  • ৩.যেহেতু সকল ডেটা সার্ভারে জমা থাকে সেহেতু খুব সহজে এর ব্যাক-আপ নেয়া যায়।

  • ৪.ভিন্ন ভিন্ন ক্লায়েন্টের ভিন্ন ভিন্ন রিকোয়েস্ট অনুযাই সার্ভার স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে।

  • ৫.ইউজার লেভেল একসেস কন্ট্রোল ব্যবহার করে অর্থাৎ ইউজারদেরকে সার্ভারে লগ-ইন করে এবং সার্ভারের সিকিউরিটি পলিসি মেনে কাজ করতে হয়  বলে ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক অনেক বেশী সিকিউর।

  • ৬.ইউজারদেরকে নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট করতে হয়না। 


অসুবিধা:

ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক এর অসুবিধাগুলো হলোঃ

  • ১. একই সাথে ভিন্ন ভিন্ন সার্ভার থেকে আসা রিকোয়েস্ট নেটওয়ার্ক ট্রাফিক জ্যাম তৈরী করে সার্ভার বিকল করে দিতে পারে।

  • ২. কোনো কারণে সার্ভার বিকল হয়ে গেলে পুরো নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা অচল হয়ে যায়।

  • ৩.এই নেটওয়ার্ক ইন্সটল ও ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জটিল প্রকৃতির ও ব্যয়বহুল।

  • ৪.এই নেটওয়ার্কে যতো  বেশী কম্পিউটার যুক্ত হয় নেটওয়ার্ক ততো দুর্বল হয়ে যায়। কেননা এই নেটওয়ার্কে সব কম্পিউটার গুলো সার্ভারের সাথে কানেক্টেড থাকে, তাই বেশি কম্পিউটার কানেক্ট হওয়া মানে সার্ভারের চাপ বেড়ে যাওয়া।

  • ৫. সার্ভারটি সার্বক্ষনিক তদারকি করতে হয়, যাতে করে এটি বন্ধ না হয়ে যায়।


Post a Comment

Previous Post Next Post