রিং টপোলজি কাকে বলে? বৈশিষ্ট্য সুবিধা অসুবিধা

 রিং টপোলজি কি? বৈশিষ্ট্য সুবিধা অসুবিধা

রিং টপোলজি কি? রিং টপোলজি কাকে বলে? রিং টপোলজির বৈশিষ্ট্য, রিং টপোলজির সুবিধা অসুবিধা - উইজস্টাডি
রিং টপোলই মডেল


রিং টপোলজি কি?

রিং (Ring) মানে এখানে বোখাচ্ছে গোল। আমরা সবাই জানি রিং  (Ring)  সবসময় গোল হয়। সেই সুবাদে বলা যায় রিং টপোলজি (Ring Topology) মানে হচ্ছে রিং এর মতো টপোলজি। এটা আমি সহজ করে বোঝানোর জন্য এভাবে বলেছি। রিং টপোলজি একেবারে যে রিং এর মতোই হবে এমন নয়। 

তবে গোল একটা এরিয়ার মধ্যেই এই টপোলজি তৈরী করা হয়। যেমন উপরের ছবিতে দেখানো মডেলটি লক্ষ্য করুন। এই মডেল অনুযাই কম্পিউটার সাজিয়ে যদি আপনি একটি নেটওয়ার্ক তৈরী করেন তখনই সেটাকে বলা হবে রিং টপোলজি।

রিং টপোলজিতে প্রতিটি নোড বা কম্পিউটার তার পার্শ্ববর্তী কম্পিউটারের সাথে যুক্ত হয়ে নেটওয়ার্ক গঠন করে। এভাবে রিংয়ের প্রথম কম্পিউটারটি সর্বশেষ কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকে এবং একটি বৃত্তাকার নেটওয়ার্ক তৈরী করে।

রিং টপোলজির নেটওয়ার্ক তৈরী করতে স্টার টপোলজির মতো কেন্দ্রীয় কোনো ডিভাসের প্রয়োজন হয়না। এই টপোলজিতে নেটওয়ার্কে যুক্ত প্রতিটি কম্পিউটার ডেটা প্রেরণের ক্ষেত্রে সমান অধিকার পায়। এই ব্যবস্থায় কোনো একটি নোড বা কম্পিউটার থেকে ডেটা পাঠালে তা বৃত্তাকার পথে ঘুরতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত প্রাপক কম্পিউটারটি ডেটা গ্রহণ না করে।

এই টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটার যে নেটওয়ার্ক কার্ড ব্যবহার করে তার উপর নির্ভাওর করে কম্পিউটারগুলিকে একসাথে সংযুক্ত করতে একটি আরজে-৪৫ নেটওয়ার্ক কেবল বা একটি কো-এক্সিয়াল ক্যাবল ব্যবহার করা হয়।

রিং টপোলজি কাকে বলে?

সংজ্ঞাঃ যে টপোলজিতে নোড বা কম্পিউটারগুলো পরস্পরের সাথে বৃত্তাকার পথে এমনভাবে যুক্ত থাকে যা দেখতে অনেকটা রিং এর মতো, তাকে রিং টপোলজি (Ring Topology) বলে।

রিং টপোলজি কিভাবে কাজ করে?


রিং টপোলজিতে একটি কম্পিউটার থেকে সংকেট পাঠানো হলে তা পরবর্তী কম্পিউটারের কাছে যায়। সংকেতটি ওই কম্পিউটারের জন্য হলে সেটি সে নিজে গ্রহণ করে, অন্যথায় ওই কম্পিউটারটি সংকেতকে তার পরবর্তী কম্পিউটারের কাছে প্রেরণ করে। সঠিক কম্পিউটারে না পৌছানো পর্যন্ত সংকেট বৃত্তাকার নেটওয়ার্ক পথে পতিভ্রমণ করে এবং এক পর্যায়ে তার কাঙ্খিত কম্পিউটারে পৌছে যায়।

রিং টপোলজির বৈশিষ্ট্যগুলো কি কি?

রিং টপোলজির বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে-

  • রিং টপোলজিতে ডিভাইসগুলো বৃত্তাকারভাবে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। 
  • এই টপোলজিতে যেহেতু প্রতিটি কম্পিউটার বৃত্তাকারভাবে যুক্ত থাকে সেহেতু প্রথম বা শেষ ডিভাইস বলে কিছু নেই।
  • রিং টপোলজিতে কোনো কেন্দ্রীয় কম্পিউটারের প্রয়োজন হয়না।
  • নেটওয়ার্কে সংযুক্ত প্রতিটি কম্পিউটার সমান গুরুত্ব পায়।
  • ডেটা ট্রান্সমিশনে কোনো নোড বা কম্পিউটার একচ্ছত্র প্রাধান্য বিস্তার করতে পারেনা।
  • এই নেটওয়ার্কে সিগন্যাল পথটি হয় রিং আকারে।
  • রিং টপোলজি বেশ দক্ষ এবং বাস টপোলজির চেয়ে ভারী ট্রাফিক পরিচালনা করে।
  • এই টপোলজির অনুসরনে সাধারণত ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক বা লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক তৈরী করা হয়।

রিং টপোলজির সুবিধা অসুবিধা কি কি?

রিং টপোলজির সুবিধা এবং অসুবিধাগুলো নিচে দেয়া হলো।

রিং টপোলজির সুবিধা

রিং টপোলজির সুবিধাগুলো হলো-

রিং টপোলজিতে ডেটা আদান প্রদানে প্রতিটি নোড বা কম্পিউটার সমান অধিকার পায়, ফলে কোনো ডিভাইস ই একচ্ছত্র প্রাধান্য বিস্তার করতে পারেনা।

এই টপোলজির নেটওয়ার্কে সংকেত প্রবাহ একমুখী হয় ফলে সংকেত সংঘর্ষ হয়না।

এতে নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করতে কোনো ধরনের নেটওয়ার্ক সার্ভার বা কেন্দ্রীয় হাবের প্রয়োজন হয়না।

এই ধরনের নেটওয়ার্ক তৈরী করা অন্যান্য নেটওয়ার্কের তুলনায় সহজ।

রিং টপোলজিতে ওয়ার্কস্টেশনগুলোর মধ্যে উচ্চ গতিতে ডাটা স্থানান্তর করা যায়।

কম্পিউটার বাড়ানো হলেও এই টপোলজি বাস টপোলজির চেয়ে ভালো পারফর্ম্যান্স দিয়ে থাকে।

এই নেটওয়ার্কের রক্ষণাবেক্ষণ কিছুটা সহজ।

রিং টপোলজির অসুবিধা

রিং টপোলজির অসুবিধাগুলো হলো-

স্টার টপোলজিতে কম্পিউটারগুলো সরাসরি সংযুক্ত না হওয়ায় একটি কম্পিউটার অন্য আরেকটি কম্পিউটারকে সরাসরি ডাটা প্রেরণ করতে পারে না।

এই টপোলজিতে নেটওয়ার্কে যুক্ত যেকোন একটি কম্পিউটার ডাটা আদান প্রদানের ক্ষমতা হারালে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে।

কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করতে বা নতুন কোনো কম্পিউটার নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে হলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক নতুন করে সাজাতে হয়।

যেহেতু ডাটা প্রবাহ একমুখী হয় সেহেতু সমস্ত ডাটা অবশ্যই নেটওয়ার্কের প্রতিটি ওয়ার্কস্টেশন/নোড/কম্পিউটার দিয়ে যেতে হবে। এর ফলে ডাটা আদান প্রধান কিছুটা ধীর গতিতে হতে পারে।

নেটওয়ার্ক তৈরীর জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার কেনা ইথারনেট কার্ড/হাব/সুইচের চেয়ে ব্যয়বহুল।

এই ধরনের নেটওয়ার্কে কোনো সমস্যা হলে তা শণাক্ত করা বেশ কঠিন।

রিং টপোলজিতে কম্পিউটারের সংখ্যা বাড়ানো হলে ডেটা ট্রান্সমিশনের সময় বেড়ে যায়।

রিং টপোলজি নিয়ন্ত্রণের জন্য জটিল সফটওয়্যারের প্রয়োজন হয়।

Post a Comment

Previous Post Next Post