বাস টপোলজি কাকে বলে? বৈশিষ্ট্য সুবিধা অসুবিধা

 

 বাস টপোলজি কি? বৈশিষ্ট্য সুবিধা অসুবিধা

বাস টপোলজি কি? বাস টপোলজি কাকে বলে? বাস টপোলজির বৈশিষ্ট্য কি কি? বাস টপোলজির সুবিধা অসুবিধা কি কি? উইজস্টাডি
বাস টপোলজি মডেল

বাস টপোলজি কি?


আচ্ছা আপনি কি ভেবে দেখেছেন, এই টপোলজির নাম বাস টপোলজি হলো কেনো? হয়তো ভেবেছেন, অথবা ভাবেন নি। চলুন এবার একসাথে ভেবে দেখা যাক-

আমরা সাধারনত দেখি, একটি বাসের মাঝখানে চলাফেরা করার জন্য পথ থাকে এবং দুইপাশে বসার সীটগুলো সারি সারি সাজানো থাকে। যখন কোনো যাত্রী বাসে উঠেন তখন তিনি মাঝখানের এই পথ দিয়ে হেটে গিয়ে সীটে বসেন। আবার যখন কোনো যাত্রীর বাস থেকে নামার প্রয়োজন হয় তখন তিনি মাঝখানের এই পথ দিয়ে হেটে নেমে যান। 

অথবা কোনো যাত্রীর যদি সীট পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়, তখন তিনি মাঝখানের এই পথ দিয়েই হেটে গিয়ে অন্য সীটে বসেন। অর্থাৎ এখানে দেখা যাচ্ছে যে মাখখানের এই পথটি এবং দুইপাশের এই সীটগুলোর মধ্যে খুবই চমৎকার একটি সম্পর্ক রয়েছে।

ঠিক এই ব্যাপারটিই ঘটে বাস টপোলজির বেলায়। বাসে যেমন যাত্রীরা চলাফেরার জন্য মাঝখানে একটি পথ থাকে তেমনি এই টপোলজিতে ডাটা চলাচলের জন্য একটি প্রধান ক্যাবল তার থাকে। এই তারের দুইদিকে কম্পিউটার/নোড বসিয়ে নেটওয়ার্ক তৈরী করা হয়। যখন কোনো ডাটা আদান প্রদানের প্রয়োজন হয় তখন তা মাঝখানের তারের মধ্য দিয়ে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে যায়।

আশা করি বাস টপোলজির সাথে বাসের সম্পর্ক বুঝে গেছেন। অনেকটাই বাসের মতো করে এই নেটওয়ার্ক তৈরী করা হয় বলেই এর নাম দেয়া হয়েছে বাস টপোলজি। যেমন, উপরের ছবিতে দেখানো মডেলটি দেখুন। এভাবে মাঝখানে একটি প্রধান ক্যাবল রেখে আর দুই দিকে কম্পিউটার বসিয়ে যদি নেটওয়ার্ক তৈরী করেন তখন তাকে বলা হবে বাস টপোলজি।

বাস টপোলজিতে মাঝখানের প্রধান সংযোগ লাইনটির দুই প্রান্তে দুটি টার্মিনেটর থাকে। এই প্রধান সংযোগ লাইনটিকে বাস বলে ডাকা হয়। এই প্রধান ক্যাবল বা বাস তারটি নেটওয়ার্কের মেরুদন্ড হিসেবে কাজ করে। তাই এই প্রধান ক্যাবল তারটিকে ব্যাকবোন (Backbone) ও বলা হয়। নেটওয়ার্কের প্রতিটি নোড/ডিভাইস/কম্পিউটার স্বতন্ত্রভাবে এই বাস বা ব্যাকবোনের সাথে সংযুক্ত থাকে। ডেটা পাঠানোর প্রয়োজন হলে প্রেরক কম্পিউটার এ লাইনে ডেটা পাঠিয়ে দেয়। 

প্রেরিত ডেটার সাথে প্রাপক কে হবে সেই তথ্যও থাকে। বাস বা ব্যাকবোনের সাথে যুক্ত অন্যান্য কম্পিউটারগুলো বাসে প্রবাহিত ডাটা পরিক্ষা করে দেখে। শুধুমাত্র প্রাপক কম্পিউটারই ডেটা গ্রহণ করে। অন্যরা এই ডাটাকে গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে।

বাস টপোলজি কাকে বলে?


সংজ্ঞাঃ যে টপোলজিতে একটি মূল তারের সাথে সবকটি ওয়ার্কস্টেশন বা কম্পিউটারে সংযুক্ত থাকে তাকে বাস টপোলজি (Bus Topology) বলা হয়।


বাস টপোলজির বৈশিষ্ট্য কি?

বাস টপোলজির বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে-

  • বাস টপোলজি একটি প্রধান ক্যাবল বা বাস এর ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। এই বাসের দুই প্রান্তে থাকে দুটি টার্মিনেটর। নেটওয়ার্কের প্রতিটি কম্পিউটার, প্রিন্টার, সার্ভার, ওয়ার্কস্টেশন, ডিভাইস ইত্যাদি এই মূল তার বা ব্যাকবোনের সাথে যুক্ত থাকে।
  • এই টপোলজির নেটওয়ার্কে কোনো কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রেরিত ডাটা প্রেরণকারী কম্পিউটার থেকে উভয় দিকে পুরো ট্রাঙ্ক ক্যাবলের সাথে প্রেরণ করা হয়।
  • বাস টপোলজিতে যখন কোনো ডাটা আদান প্রদান করা হয় তক্ষণ এটি ডাটার সাথে প্রেরক কম্পিউটার থেকে নির্ধারণ করা ঠিকানার সাথে গন্তব্যের ঠিকানা (MAC Address/IP Address) মেলে কিনা তা পরিক্ষা করে। যদি মেলে তাহলে প্রাপক কম্পিউটারটি ডাটা গ্রহণ করে নেয়। আর যদি ঠিকানাটি না মেলে তবে অন্য কোনো কম্পিউটার ডাটা গ্রহণ করেনা। 

বাস টপোলজির সুইধা ও অসুবিধা কি?

বাস টপোলজির সুবিধা এবং অসুবিধাগুলো নিচে দেয়া হলো।

বাস টপোলজির সুবিধা

বাস টপোলজির সুবিধাগুলো হলো-

  • ছোট পরিসরে নেটওয়ার্ক তৈরী করার জন্য এই টপোলজি খুবই সহায়ক।
  • এই টপোলজির ডিজাইন অত্যন্ত সরল, তাই বাস্তবায়ন যেমন সহজ তেমনি নেটওয়ার্ক তৈরীতে ব্যয়ও অনেক কম। কারণ এই টপোলজি তৈরীতে অনেক কম ক্যাবলের প্রয়োজন হয়।
  • রিপিটার ব্যবহার করে বাস বা ব্যাকবোন সম্প্রসারণ করা যায়।
  • যেকোন সময় নেটওয়ার্ক থেকে খুব সহজেই যেকোন কম্পিউটার বিচ্ছিন্ন করা বা নেটওয়ার্কে নতুন কম্পিউটার যুক্ত করা যায়।
  • নেটওয়ার্কের কোনো কম্পিউটার নষ্ট হলেও পুরো নেটওয়ার্কের উপর কোনো প্রভাব পড়েনা।

বাস টপোলজির অসুবিধা

বাস টপোলজির অসুবিধাগুলো হলো-

  • বড় নেটওয়ার্ক তৈরীর জন্য এই টপোলজি উপযুক্ত নয়। কারণ বড় নেটওয়ার্কে এই টপোলজি ব্যবহার করলে প্রধান সংযোগ লাইনে ডাটার আধিক্য দেখা দেয় এবং সংকেত সংঘর্ষ ঘটে, ফলে পুনরায় সংকেট প্রেরনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
  • নেটওয়ার্কে কম্পিউটারের সংখ্যা বৃদ্ধি করলে ডাটা ট্রান্সমিশন বিঘ্নিত হয়।
  • বাস টপোলজিতে ডাটা ট্রান্সমিশনে গতি কম পাওয়া যায়।
  • বাস টপোলজিতে প্রধান সংযোগ লাইন (বাস/ব্যাকবোন) নষ্ট হলে বা কোনো ত্রুটি দেখা দিলে পুরো নেটওয়ার্ক বিকল হয়ে পড়ে।
  • নেটওয়ার্কে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা শণাক্ত করা কঠিন।

Post a Comment

Previous Post Next Post