মেশ টপোলজি কি? বৈশিষ্ট্য সুবিধা অসুবিধা

 মেশ টপোলজি কি? বৈশিষ্ট্য সুবিধা অসুবিধা

মেশ টপোলজি কি? মেশ টপোলজি কাকে বলে? মেশ টপোলজির বৈশিষ্ট্য কি? মেশ টপোলজির সুবিধা কি? মেশ টপোলজির অসুবিধা কি? উজস্টাডি
মেশ টপোলজি নেটওয়ার্ক মডেল


মেশ টপোলজি কি?


মেশ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে 'জাল'। এই জাল থেকেই হয়েছে জাল টপোলজি, মানে মেশ টপোলজি। কমবেশি আমরা সবাই মাছ ধরার জাল চিনি। আপনি একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন একটি জালে সুতাগুলো কিভাবে একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে জাল তৈরি হয়। জালে প্রতিটি সুতা ইন্টারনালি একে অপরের সাথে যুক্ত। 

ঠিক এই ব্যাপারটিই ঘটে মেশ টপোলজিতে। এতে কম্পিউটারগুলোকে এমনভাবে সাজিয়ে নেটওয়ার্ক তৈরী করা হয় যেনো কম্পিউটারগুলো জালের মতো একটি আকৃতি তৈরি করে এবং প্রতিটি কম্পিউটার প্রতিটি কম্পিউটারের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। 

উপরের ছবিতে দেখানো মেশ টপোলজি নেটওয়ার্ক মডেলটি লক্ষ্য করুন। এতে যেভাবে কম্পিউটারগুলোকে সাজানোর নমুনা দেখানো হয়েছে এভাবে যদি কম্পিউটার সাজিয়ে কোনো নেটওয়ার্ক তৈরী করা হয় তখন তাকে বলা হবে মেশ টপোলজি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ মেশ টপোলজি নেটওয়ার্ক মূলত হাইব্রিড মেশ নেটওয়ার্ক এবং এতে শুধু অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় লিঙ্ক থাকে।

মেশ টপোলজিতে কম্পিউটারের সংখ্যা নির্নয়ের জন্য একটি সূত্র আছে। সূত্রটি হলোঃ

c = n ( n - 1 ) / 2

এখানে n হচ্ছে কম্পিউটারের সংখ্যা বা নোড সংখ্যা।

মেশ টপোলজির একটি মজার ব্যাপার হচ্ছে আপনি চাইলেই একটি রিং টপোলজিকে খুব সহজেই মেশ টপোলজিতে রূপান্তর করতে পারবেন। আমরা জানি রিং টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটার পাশাপাশি একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে। এর ফলে এতে প্রথম কম্পিউটার বা শেষ কম্পিউটার বলে কিছু নেই। মেশ টপোলজিও অলমোস্ট সেইম। রিং টপোলজিতে কম্পিউটারগুলো পাশাপাশি যুক্ত থাকে। আপনি যদি একটি রিং টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটারকে প্রতিটির সাথে অতিরিক্ত ক্যাবল দিয়ে সংযুক্ত করে দেন তাহলেই তা মেশ টপোলজিতে রূপান্তরিত হবে।

মেশ টপোলজি কাকে বলে?


সংজ্ঞাঃ যে টপোলজিতে একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কভুক্ত অন্য প্রতিটি কম্পিউটারের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে তাকে মেশ টপোলজি  (Mesh Topology) বলে।

মেশ টপোলজির বৈশিষ্ট্য কি?

মেশ টপোলজির বৈশিষ্ট্যগুলো হলোঃ

  • মেশ টপোলজিতে নেটওয়ার্কভুক্ত প্রতিটি কম্পিউটার পরস্পরের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে। অর্থাৎ এই টপোলজিতে প্রতিটি কম্পিউটারের মধ্যে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ( Peer to Peer ) লিংক তৈরী হয়।
  • নেটওয়ার্কভুক্ত প্রতিটি কম্পিউটার একে অপরের সাথে সরাসরি ডাটা আদানপ্রদান করতে পারে। ফলে ডাটা আদান প্রদান অনেক দ্রুত হয়।
  • এই টপোলজিতে কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভার বা ডিভাইস থাকেনা।
  • এর নেটওয়ার্ক সংগঠন বেশ শক্তিশালী।
  • মেশ টপোলজি তৈরী করা বেশ ব্যয়বহুল।
  • এতে কম্পিউটারগুলোর মধ্যে একাধিক পাথ থাকে।
  • মেশ টপোলজির একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ইন্টারনেট।

মেশ টপোলজির সুবিধা অসুবিধা কি?


মেশ টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধাগুলো নিচে দেয়া হলো।

মেশ টপোলজির সুবিধা


মেশ টপোলজির সুবিধাগুলো হলো-

  • মেশ টপোলজিতে ডাটা কমিউনিকেশনে অনেক বেশী নিশ্চয়তা থাকে। যেকোন কম্পিউটার নেটওয়ার্কভুক্ত অন্য যেকোন কম্পিউটারের সাথে সরাসরি দ্রুত ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে।
  • এই টপোলজির নেটওয়ার্কে কোনো ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্থ হলে বিকল্প পদ্ধতিতে যোগাযোগ করা যায়।
  • এর নেটওয়ার্ক সংগঠন অনেক শক্তিশালী।
  • কোনো কম্পিউটার অচল হলেও নেটওয়ার্ক সচল থাকে।
  • এই টপোলজিতে কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভার/হাব/সুইচ না থাকায় ডাটা ট্রান্সমিশন অনেক দ্রুত হয়।
  • এই ধরনের নেটওয়ার্ক টপোলজিতে এক ওয়ার্কস্টেশন/নোড/ডিভাইস থেকে অন্য ওয়ার্কস্টেশন/নোড/ডিভাইস এ ডাটা স্থানান্তর এর বিরতি সময় বেশ কম লাগে।
  • এর নেটওয়ার্কে কোনো সমস্যা হলে তা সহজেই সমাধান করা যায়।
  • নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা থাকে।

মেশ টপোলজির অসুবিধা


মেশ টপোলজির অসুবিধাগুলো হলো-

  • যেহেতু মেশ টপোলজির নেটওয়ার্কে প্রতিটি কম্পিউটার একে অপরের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে সেহেতু অনেক বেশী ক্যাবল প্রয়োজন হয়। তাই মেশ টপোলজির নেটওয়ার্ক তৈরী করা বেশ ব্যয়বহুল।
  • মেশ টপোলজির ইন্সটলেশন ও কনফিগারেশন অনেক জটিল।
  • এই টপোলজিতে নোডের সংখ্যা বাড়ানো ব্যয়বহুল।

মেশ টপোলজি কেনো ব্যবহার করা হয়?


সাধারণত কম্পিউটার নেটওয়ার্কে এই টপোলজি ব্যবহার করা হয়না। মূলত WAN বাস্তবায়নের জন্য এই টপোলজি ব্যবহৃত হয়। যেখানে নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত কম্পিউটারগুলোর মধ্যে খুব দ্রুত ডাটা ট্রান্সফার প্রয়োজন ও ব্যয় সংকোচনের প্রয়োজন নেই শুধুমাত্র সেসব ক্ষেত্রেই মেশ টপোলজি ব্যবহার করা হয়। যেমনঃ প্রতিরক্ষা ( Defense ) ক্ষেত্রে এর ব্যবহার রয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post