স্টার টপোলজি কাকে বলে? বৈশিষ্ট্য সুবিধা অসুবিধা

 স্টার টপোলজি কি? স্টার টপোলজির বৈশিষ্ট্য সুবিধা অসুবিধা

আপনি কি জানেন নেটওয়ার্ক টপোলজি কি? না জানলে এখানে দেখুনঃ নেটওয়ার্ক টপোলজি
স্টার টপোলজি কি? স্টার টপোলজি কাকে বলে? স্টার টপোলজির সুবিধা অসুবিধা কি কি? উইজস্টাডি
স্টার টপোলজি মডেল

স্টার টপোলজি কি?

স্টার শব্দের বাংলা অর্থ হচ্ছে তারা। সেই সুবাদে বলা যায় স্টার টপোলজি মানে হচ্ছে তারার মতো টপোলজি। হ্যা এটাই। এই টপোলজির নামের সাথে কাজের প্রচুর মিল রয়েছে। 

একটি তারায় যেমন পাঁচটি কোণা ও একটি কেন্দ্র থাকে তেমনি স্টার টপোলজিতেও একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইসের সাথে বিভিন্ন দিক থেকে অনেকগুলো ডিভাইস যুক্ত থাকে। কেন্দ্রীয় যে ডিভাইসটির সাথে নেটওয়ার্কের প্রতিটি কম্পিউটার যুক্ত হয় একে বলে কনসেনট্রেটর। এই কেন্দ্রীয় ডিভাইস বা কনসেনট্রেটরটি হতে পারে কোনো একটি হাব বা সুইচ। 

এই টপোলজিতে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রেরিত ডাটা গন্তব্যে গন্তব্যে যাওয়ার পূর্বে কেন্দ্রীয় হাবের মধ্য দিয়ে যায়। কোন কম্পিউটার ডেটা ট্রান্সফার করার প্রয়োজন হলে তা হাব বা সুইচে পাঠিয়ে দেয় এরপর হাব বা সুইচ সেই সিগন্যালকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌছে দেয়।

স্টার টপোলজি তৈরী করার জন্য সাধারণত টুইয়েস্টেড পেয়ার ক্যাবল ব্যবহৃত হয়। তবে নেটওয়ার্কে একইসাথে কো এক্সিয়াল বা ফাইবার অপটিক ক্যাবল ও ব্যবহার করা যায়।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, স্টার টপোলজিতে কি শুধু পাঁচটি ডিভাইস ই যুক্ত করা যাবে? এর উত্তর হচ্ছে- "না"। আপনি চাইলে এই টপোলজিতে পাঁচটির বেশী ডিভাইস ও যুক্ত করতে পারেন তবে কেন্দ্র থাকবে একটাই।

স্টার টপোলজি কাকে বলে?


সংজ্ঞাঃ যে টপোলজিতে নেটওয়ার্কের সব কম্পিউটার একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইসের সঙ্গে যুক্ত থাকে তাকে স্টার টপোলজি (Star topology) বলে। এই টপোলজি তৈরী করার সময় কেন্দ্রীয় ডিভাইস হিসেবে হাব বা সুইচ ব্যবহার করা হয়।

স্টার টপোলজির বৈশিষ্ট্যগুলো কি কি?

স্টার টপোলজির বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে-

  • স্টার টপোলজিতে প্রতিটি নোড এবং হাব/সুইচ ডিভাইসের মধ্যে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট সংযোগ থাকে। ফলে, প্রতিটি নোড (কম্পিউটার, প্রিন্টার ইত্যাদি) হাব বা সুইচের সাথে কেন্দ্রীয়ভাবে যুক্ত থাকে।।

  • এর নকশাটি তারার মতো যেখানে কেন্দ্র থেকে কোণাগুলি চারদিকে ছড়িয়ে যায়। এতে করে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রেরিত ডাটা গন্তব্যে গন্তব্যে যাওয়ার পূর্বে কেন্দ্রীয় হাবের মধ্য দিয়ে যায়।

  • এই টপোলজির একই নেটওয়ার্কে বিভিন্ন ধরনের কেবল ব্যবহার করা যায়।

  • কেন্দ্রীয় ডিভাইসটি কোনও নোড থেকে একটি ডেটা প্যাকেট গ্রহণ করে এবং এটি নেটওয়ার্কের অন্য সমস্ত নোডে প্রেরণ করে। হাব বা সুইচটি একটি সার্ভার হিসাবে কাজ করে, সমস্ত নেটওয়ার্ক ফাংশন নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে।

  • এতে কোনো একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে নেটওয়ার্কের কোনো সমস্যা হয় না।

  • নেটওয়ার্কে যুক্ত ডিভাইসগুলো যদি পরস্পর যোগাযোগ করতে চায় তবে তারা বার্তাটি সার্ভারে প্রেরণ করে এবং সার্ভারের বার্তাটি অন্য নোডে ফরোয়ার্ড করে। এভাবে তারার মতো একটি টপোলজি তৈরি হয়।

  • কেন্দ্রীয় ডিভাইসের সঙ্গে সহজে নতুন কম্পিউটার যুক্ত করা যায়।

  • রিং ও বাস টপোলজির তুলনায় এই টপোলজিতে কেবল বেশি লাগে।



স্টার টপোলজির সুবিধা ও অসুবিধা কি কি

স্টার টপোলজির সুবিধা এবং অসুবিধাগুলো নিচে দেয়া হলো।

স্টার টপোলজির সুবিধা

স্টার টপোলজির সুবিধাগুলো হলো-

  • স্টার টপোলজিতে খুব সহজেই নেটওয়ার্কে অধিকসংখ্যক ডিভাইস যুক্ত করা যায় এবং প্রয়োজনে বাদ দেয়া যায়।
  • এই টপোলজিতে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রেরিত ডাটা গন্তব্যে গন্তব্যে যাওয়ার পূর্বে কেন্দ্রীয় হাবের মধ্য দিয়ে যায়। ফলে সংকেত আদান প্রদানে কম সময়ের প্রয়োজন হয়।
  • যেহেতু হাব বা সুইচ দ্বারা এই নেটওয়ার্ক কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত সেহেতু স্টার টপোলজির নেটওয়ার্কে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা শনাক্ত করা সহজ।
  • স্টার টপোলজিতে নেটওয়ার্ক থেকে কোনো নোড বিচ্ছিন্ন হলে বা নতুন কোনো নোড নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হলে নেটওয়ার্কের উপর কোনো প্রভাব পড়েনা।
  • নেটওয়ার্কের কোনো একটি কম্পিউটার বিকল হলে কিংবা কোনো নোড নষ্ট হলেও নেটওয়ার্কের উপর কোনো প্রভাব পড়েনা। 
  • নেটওয়ার্কে কোন সমস্যা দেখা দিলে সহজেই কেন্দ্রিয় অবস্থান মানে হাব থেকে সমস্যা অনুসন্ধান করা যায় । ইনটেলিজেন্ট হাব ব্যবহার করলে সেটি নেটওয়ার্ক মনিটরিং এর কাজও করতে পারে ।
  •  যেহেতু হাব বিভিন্ন ধরনের ক্যাবল সাপোর্ট করে সেহেতু এই টপোলজিতে একইসাথে কয়েক ধরনের ক্যাবল ব্যাবহারের সুবিধা পাওয়ার যায় ।
  • এই টপোলজির ভিত্তিতে তৈরি করা নেটওয়ার্ক এর ট্রাবলশ্যুট করা সহজ।

স্টার টপোলজির অসুবিধা

স্টার টপোলজির অসুবিধাগুলো হলো-

  • কেন্দ্রীয়ভাবে সংযোগকারী ডিভাইস হাব বা সুইচ ব্যতীত অন্যান্য নোডের মধ্যে আন্তসংযোগ না থাকায় হাব বা সুইচ নষ্ট হলে সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ে।
  • এই টপোলজি গঠন করার সময় প্রতিটি নোডের জন্য পৃথক পৃথক তারের প্রয়োজন হয়, তাই এর বাস্তুবায়ন ব্যয় একটু বেশী।
  • স্টার টপোলজিতে ডিভাইস/কম্পিউটারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ডেটা ট্রান্সমিশনের হার হ্রাস পায়।


Post a Comment

Previous Post Next Post